।। পরিবেশ রক্ষায় কিপ্টে হউন।।


ইংরেজীতে প্রবাদ আছে, “TIT FOR TAT” অর্থাৎ ইট মারলে পাটকেল খেতে হয় ।

অনেক আগে থেকেই আমরা পরিবেশকে ইট মেরে এসেছি । নিজেদের ইচ্ছেমত ধ্বংস করেছি পরিবেশের উপাদান । উজাড় করেছি বন, দূষিত করেছি মাটি, বায়ু ,পানি । প্রয়োজনের তাগিদে নির্গমন করেছি কার্বন , ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডে বিষিয়ে উঠেছে বায়ুমন্ডল । বেচারা প্রথম প্রথম সহ্য করত বলে কেউ পাত্তা দিত না, কিন্তু যখন দেখল এইসব মানুষ তাকে ক্রমাগত ইট মেরেই যাচ্ছে, তখনই পাটকেল মারা শুরু করল যা মানুষের কাছে প্রাকৃ্তিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হল । এবং তার পর থেকেই মানুষ পরিবেশ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করল, চেষ্টা শুরু করল সমযোতার । ফলে কার্বন নির্গমনের হার কমানো আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে

আমাদের সকলের অল্প অল্প কিপ্টেমিই বায়ুমন্ডলে কার্বন নির্গমনের হার কমানোর জন্য যথেষ্ট না হলেও অনেকাংশেই কার্যকরী ……

যেসব বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকারঃঃঃঃ

  •  গৃহস্থালী জিনিসপত্র কেনার সময় অপচনশীল বস্তুর চেয়ে পূনঃব্যবহারযোগ্য বস্তুটাকেই বেশি প্রাধান্য দিন । প্যাকেট সুন্দর হলেই জিনিস ভাল হবে এরকম ধারনা বাদ দিন; পেলাস্টিকের হাবিজাবি প্যাকেটিং এর কারনেই আপনার আবর্জনার পরিমান দ্বিগুন হয়ে পড়ে । যখনিই সুযোগ পাবেন আবর্জনা পূনঃব্যবহারের চেষ্টা করুন, আপনার পরিবারের বর্জ্য অর্ধেক পূনঃব্যবহার দ্বারা, আপনি বার্ষিক কার্বন ডাই অক্সাইড ২,৪০০ পাউন্ড সঞ্চয় করতে সক্ষম হবেন ।

btl

  • শুধুমাত্র একটি তরুন গাছ বছরে ৪৮পাউন্ড (প্রায় ২১.৭৭ কেজি) কার্বন শোষণ করে । অর্থাৎ মাত্র এক একর বন প্রতি বছর ১০০ মেট্রিক টন কার্বন শোষণে সক্ষম ,যা একটা আনস্মার্ট গাড়ি ২৬,০০০  মাইল চালালে যে পরিমান কার্বন উৎপন্ন হয় তার সমান । তাই পতিত জমিতে গাছ লাগান,কার্বন সঞ্চয় করুন, দীর্ঘ সময়ে অধিক টাকা কামান ।।

wellbeing-hand-and-plant

  • দাদার আমলের হলুদ বাল্বের পরিবর্তে ব্যবহার করুন এনার্জি বাল্ব, যা হলুদ বাল্বের চেয়ে ২/৩ অংশ কম শক্তি  ব্যবহার করে  ১০গুন বেশি টিকবে এবং শতকরা ৭০ভাগ কম তাপ উৎপন্ন করে ভাল মানের আলো দেবে । এক্ষেত্রে কার্বন সঞ্চয়ের পশাপাশি আপনার বিদ্যুৎ বিলবাবদ অর্থও সঞ্চয় হবে……….

l8

  • মোটর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নিশ্চিত হোন যে গাড়ির ইঞ্জিন ঠিকমত কাজ করছে কি না, আর ঠক্ ঠক্ ঠেকারর গাড়ী যথাসম্ভব পরিহার করুন । ট্রাফিক জ্যাম বা সিগন্যালের সময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন । মনে রাখবেন, ১ গ্যালন গ্যাসোলিন বা ১ গ্যালন ডিজেল শুধুমাত্র আপনার পকেটই পূর্ণ রাখবে না, সেই সাথে বায়ুমন্ডলে যথাক্রমে ২০ এবং ২২ পাউন্ড কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রবেশে বাধাও দিবে । কম দূরত্ব অতিক্রমের জন্য ইঞ্জিন চালিত যানবাহন বর্জন করুন ।

crr

  • কাঠের লাকড়ির পরিবর্তে চারকোলের লাকড়ি ব্যবহার করুন যা উচ্চমানের কার্বন সমৃদ্ধ, কম ছাইযুক্ত,ধোঁয়াহীন,গন্ধহীন এবং কাঠের তুলনায় তাড়াতাড়ি রান্না হয় । এগুলো বাজারে পাওয়া যায় এবং দামও হাতের নাগালেই……

lakri

  •  রুম হিটার এবং এয়ার কন্ডিশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘুমানোর সময় একটু বন্ধ রাখলে হয় না ভায়া? ঘুম ই ত যাবেন, ঘুমের মধ্যে ত আকাশ পাতাল সবই সমান !!আপনার এই তাপনিয়ন্ত্রনকারী জিনিসগুলোর তাপমাত্রা গরমের সময় শুধুমাত্র ২ডিগ্রী বাড়িয়ে কিংবা শীতের সময় ২ ডিগ্রী কমিয়েই  জমিয়ে ফেলতে পারেন বছরে ২,০০০ পাউন্ড কার্বন । এগুলো চালানোর সময় দরজা,জানালা বন্ধ করে দিন । প্রয়োজন না হলে সব ধরনের ইলেট্রিক সংযোগ বন্ধ রাখুন । বাইরে যাওয়ার সময় ঘরের তালা আঁটকিয়েছেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান,এ সি বন্ধ করেছেন কিনা সেটাও নিশ্চিত হোন । জামাকাপড় ইলেকট্রিক ড্রাইয়ার এর পরিবর্তে রোদে শুকান ।

kpr

  •  আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে অন্যকে উৎসাহিত করা । আমাদের আড্ডার বিষয় হোক পরিবেশ । অমুক সিরিয়ালের তমুক চরিত্রটা কেমন হয়েছে তার পাশাপাশি যদি কে কেমন ভাবে অপচয় রোধ করছেন তা নিয়ে আলাপ করা যায়, তবেই বুঝবেন আমাদের সুদিন আসছে, আমরাও হতে পারি পরিবেশের বন্ধু ।।

সবাই টাকা-পয়সা সঞ্চয় করে,   আপনি কেন কার্বন সঞ্চয়  করবেন ???

গ্রীসে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে,

“A society grows great when old men plant trees whose shade they know they shall never sit in.”…. একটি সমাজ তখনই উন্নত হবে যখন বৃদ্ধরা ছায়া নিজেরা উপভোগ করতে পারবে না জেনেও গাছ লাগাবে ।

আপনি অবশ্যই আপনার সন্তানদের জন্য একটি দূষন মুক্ত পরিবেশ চাইবেন । ধরুন প্রবল বৃষ্টিতে আপনার প্রাণপ্রিয় ছেলে হেঁটে যাচ্ছে, (স্বাভাবিক বৃষ্টি নয়, এসিড বৃষ্টি), রাস্তার পাশে দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার স্তুপ , শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহার করছে কার্বন মনোক্সাইডযুক্ত দুষিত বায়ু , পান করছে ক্যাডমিয়ামযুক্ত বিষাক্ত পানি । আপনি কি এই পরিবেশে আপনার ছেলেকে বড় করতে চান?  আশা করি কেউই চাইবেন না । আর এজন্যই আমাদের কার্বন সঞ্চয় করতে হবে । বিশ্বজনীন শিল্প বিপ্লব ও আমদের সামান্য অসাবধানতার কারনেই বায়ুমন্ডলে বেড়ে যাচ্ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান । ফলে বৈষ্ণিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে; বেড়ে যাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠে্র উচ্চতা । আমরা হারাতে বসেছি উপকূলীয় এলাকা ।যার ফলাফল আমরা মোটামুটি ভাবে টের পেলেও আমাদের সন্তানের হাঁড়ে হাঁড়েই টের পাবে । আর কিছু ছোট ছোট ব্যপারে আমাদের সামান্য মিতব্যয়িতাই পারে বায়ুমন্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান কমাতে । এতে শধু আপনার পরিবেশই বাঁচবে না , বাঁচবে আপনার টাকা-পয়সাও ।

তাই আসুন পরিবেশ রক্ষায় কিপ্টে হই । আপনার সামান্য কিপ্টেমিই পারে পৃথিবীর বয়স বাড়িয়ে দিতে, আপনার সন্তানদের আরো বেশীদিন বাঁচার সুযোগ করে দিতে । আর এই সামান্য সচেতনতার জন্য মানুষ আপনাকে কিপ্টেমির অপবাদ দিবে নাহ্ 😛 ।।

Advertisements

8 thoughts on “।। পরিবেশ রক্ষায় কিপ্টে হউন।।

      1. অতিরিক্ত পরিমানে গাছ লাগাতে হবে ।পরিবেশের দূষন কমাতে হবে । সব ধরনের মানুষকে সচেতন হতে হবে ।সবাইকে শপথ নিতে হবে -আমাদের পরিবেশকে সুস্থ রাখার জন) ।

        Liked by 1 person

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s