ওজন ব্র্যান্ড এর ছাতা


ছাতি বা ছাতা যাই বলেন মাথা ঢাকার জন্য এটি অতি উত্তম একটি জিনিস । এই ছাতার ভিতরেই রোদে কিংবা বৃষ্টিতে সুরক্ষিত থাকি আমরা । অতিরিক্ত ব্যবহারের কারনে মাঝে মাঝে ছাতা ফুটা হয়ে যায় । তখনই বুঝা যায় ছাতার গুরুত্ব। ফুটা দিয়ে রোদ এসে মাথায় পড়ে মাথা গরম করে দেয় বা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় গা ।
তেমনি ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার উপরে অবস্থিত ওজন স্তর আমাদের পৃ্থিবীর ছাতা হিসেবে কাজ করে। না, রোদ বৃষ্টি নয় এটি হল বেগুনী রশ্মী প্রতিরোধক ছাতা । এই ছাতা পৃ্থিবীতে প্রবেশ করতে দেয় না সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনী রশ্মিকে। কিন্তু মানুষের সুখে থাকতে ভূতে কিলাই জনিত প্রবনতার কারনে ভাল থাকতে দিচ্ছে না এই ছাতাটাকে । শিল্প বিপ্লব এবং আধুনিক জীবন যাপনের জন্য মানুষ ব্যবহার করছে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক, যা থেকে নির্গত হচ্ছে CFC (ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন)। শীতাতপ নিয়ন্ত্রন, পরিষ্কারক, বিভিন্ন ধরনের স্প্রে এবং রেফ্রিজারেটরে এসব ক্ষেত্রেই CFC বেশী ব্যবহৃত হয়।
শুধু CFC ই নয়… মিথাইল ক্লোরফর্ম, কার্বন টেট্টাক্লোরাইড, হাইড্রো-ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন, ব্রোমো-ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন এবং মিথাইল ব্রোমাইড এর সরাসরি ভূমিকা আছে ওজন স্তরের ক্ষয় সাধনে । তবে CFC র ভূমিকাই বেশী । CFC বায়ুমন্ডলে অধিক স্থিতিশীল। এগুলো ভাঙতে প্রায় ২০-১২০ বছর লাগে। CFC বৃষ্টির সাথেও নিচে পড়ে না। সুর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রে বা অতিবেগুনী রশ্মীর প্রভাবেই কেবল ভাঙতে পারে। CFC ভেঙে ক্লোরিন পরমানু মুক্ত হয় এবং মুক্ত কোরিন ওজন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তাকে অক্সিজেনে পরিনত করে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, প্রতি এক পরমানু ক্লোরিনের জন্য এটি ১০০,০০০বার চলতে থাকে।
ফলে কমতে থাকে ওজন স্তরে ওজনের ঘনত্ব। স্তর পাতলা হয়ে পড়ে এবং অতিবেগুনী রশ্মীকে পৃ্থিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশে সাহায্য করে।
আর এই অতিবেগুনী রশ্মী পৃ্থিবীর সকল প্রাণিকুলের জন্য হুমকি স্বরূপ।

প্রাণিকুলের উপর ক্ষতিকর প্রভাবঃ

— প্রাণীদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ।
–সন্তান বি্কলাঙ্গ হয়ে যেতে পারে ।
— বিভিন্ন প্রকার চর্ম রোগের সৃষ্টি হয়। এমনকি স্কীন ক্যান্সারও হতে পারে।
— ঘটতে পারে প্রজাতির বিলুপ্তি।
— কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
— বন ও বনজ সম্পদের জন্যও এটি ক্ষতিকর।
— ক্ষুদ্র অনুজীব,সমুদ্র শৈবাল এবং প্লাংকটন অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে নিঃষেশ হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যচক্রকে প্রভাবিত করে ক্ষতি সাধন করবে।

ধরুন ছাতা ফুটা হয়ে গেছে, কি করবেন এখন ?? আপনার হাতে দুইটি অপশন আছে ; হয় ফুটা সারিয়ে ফেলা ,না হয় নতুন ছাতা কেনা ।
কিন্তু ওজন ছাতার ক্ষেত্রে অপশন একটাই, ফুটা  সারিয়ে ফেলতে হবে । আপনি চাইলেই নতুন কোন লেয়ার বায়ুমন্ডলে যোগ করতে পারেন নাহ ।।

ওজন লেয়ার রক্ষা করতে হলে আপনাকে যা করতে হবেঃ

–মন্ট্রিল প্রোটোকোল নামে ১৯৮৯ সালে  CFC আন্তজার্তিকভাবে নিষিদ্ধ করার  লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ( যদিও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয় নি ) । বর্তমানে CFCর পরিবর্তে  HCFC কে অধিকতর পরিবেশ বান্ধব মনে করা হয় । এটি যদিও ক্ষতিকর, তবুও CFC থেকে অনেকাংশেই কম । শিল্পকারখানার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের এই ব্যপারটা গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে ।
–রাসায়নিক সার ব্যবহার বন্ধ করে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে ।
–অপ্রয়োজনে যে কোন ধরনের স্প্রে ব্যবহারে বিরত থাকুন । স্প্রে শেষ হয়ে গেলে বক্স / ক্যান টা ব্লাস্ট বা পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন না । নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে  ফেলুন ।

–পরিষ্কারের কাজে প্রাকৃ্তিক উপকরন ব্যবহার করুন ।

আজ ১৬-ই সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক ওজন দিবস । এবারের শ্লোগান ,

 সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ওজন স্তর রক্ষা করি,

অতি বেগুনী রশ্মি হতে নিরাপদ থাকি

হ্যাঁ । আমার আপনার একার চেষ্টায় এটা সম্ভব না, কিন্তু আমাদের সকলের যৌথ চেষ্টায় অবশ্যই সম্ভব।

আপনার ছাতা ফুটো হলে আপনিই  সারাবেন, কিন্তু ওজোন ব্র্যান্ডের এই ছাতার ফুটো সারাতে হলে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে  ।।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s