কাঁটার আঘাত না পানির??


তোমার জন্য ফোঁটাতে পারি সহস্র গোলাপ
তোমার জন্য এক বরষা প্রেমালাপ!

আচ্ছা এই সহস্র গোলাপ ফোটাতে গেলে যে পানির প্রয়োজন হবে তা বর্তমানে পানি সংকটে নষ্ট না করে বরং দুইটা গোলাপের বিশ লিটার পানির জারের ভালবাসা দিলাম!
জিন্সের পকেটে হাত রেখে হাঁটার সময় একবারও কি খবর রাখি এই জিন্স বানাতে কত হাজার লিটার পানি খরচ হয়েছে? হয়ত থ্রি কোয়ার্টার পরলে পানি বোধহয় আরেকটু কম যেত কিংবা হাফ প্যান্ট। নাকি শুধুই …
না না ঠিক আছে আর না। পানির জন্য লজ্জা বিসর্জন দেয়ার অবস্থায় চলে যাওয়ার টাইম এখনো হয় নাই। এমনিই বললাম।তবে ভার্চুয়াল ওয়াটার নিয়ে কয়েকটা কথা বলা যেতেই পারে।

 ভার্চুয়াল ওয়াটার বিষয়টাকে সংক্ষেপে বললে বলা যায় একটা পণ্যের পিছনে খরচ হওয়া মোট পানির পরিমান। ভার্চুয়াল ওয়াটার নিয়ে এত মাতামাতির কি আছে? আসলে বর্তমানে পানির যে সংকটের সূচনা হচ্ছে তার উপসংহারে পৌঁছানোর একটা প্রচেষ্টা এই ভার্চুয়াল ওয়াটার ধারনা। আপেল খাচ্ছেন? একটা আপেল আপনার হাতে আসার আগে ৬৮-৭০ লিটার পানিতে সাঁতার কেটেছে! চিন্তা করেন কত পানি। একটা আপেল বীজ থেকে আপনার হাতে আসার আগে এত্তগুলা পানির দরকার হয়েছে। ভার্চুয়াল বলা হয় এই কারণে যে পানিটার হিসেব দেখানো হচ্ছে বাস্তবে ঐ পানি পণ্যের মধ্যে অবস্থিত না। ভার্চুয়াল ওয়াটার ধারনা প্রবর্তন করার কারন আমরা প্রতিদিন আসলে কি পরিমান পানি ব্যবহার করি তার ধারনা পাওয়া। যদি বলি আমরা গড়ে কয়েক হাজার লিটার পানি ব্যবহার করি প্রতিদিন তাহলে অবাক হবেন? সরাসরি খাওয়া বা ব্যবহার হিসাবে নয়,আমাদের খরচ হওয়া পানির বেশির ভাগই হচ্ছে আমরা যে খাবার খাচ্ছি, যেসব পণ্য প্রতিদিন ব্যবহার করছি তার উৎপাদনের পিছনে। অর্থাৎ কোন পন্য বিশেষ করে খাবার নষ্ট করার অর্থ প্রচুর পানি নষ্ট করা। এক কেজি গরুর মাংস উৎপাদন করতেই প্রায় ১৫০০০ লিটার পানি খরচ হয়। মুরগীর ক্ষেত্রে পরিমানটা অনেক কম। তারপর ধান গম ভূট্টা এসবের মধ্যে ধানের ভার্চুয়াল ওয়াটার সবচেয়ে বেশি। তবে সাধারনত উদ্ভিজ্জ যেকোন কিছুর তুলনায় প্রাণীজ খাবারের ভার্চুয়াল ওয়াটার বেশি। তাহলে নিরামিষভোজী হয়ে যাব? না তা বলছি না। তবে উন্নত দেশ গুলাতে সপ্তাহে একদিন নিরামিষ খাবার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। ওদের কথা অবশ্য আলাদা। বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয় এত মাংস খায় না যে নিরামিষ দিবস পালন করতে হবে।অবশ্য এটা আমার কথা। যা বলছিলাম, বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত যেকোন কিছুর তুলনায় প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত পণ্যের ভার্চুয়াল ওয়াটার অবশ্যই কম হবে। হোক গরু ছাগল মুরগী কিংবা ধান গম। উন্নত দেশ গুলো যে পরিমাণ খাবার নষ্ট করে তাতেই পানির অনেক অপচয় হয়ে যায়।

ভার্চুয়াল ওয়াটারের পরিমাণ জানলে বুঝা যায় কোন পণ্যটার পিছনে অতিরিক্ত পানি যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে পানি সাশ্রয় করা যেতে পারে। ভাতের বদলে রুটি কিংবা গরুর বদলে মুরগী, সব্জি। তবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন একদিনে হবেনা। ধীরে ধীরে।

এই ভার্চুয়াল ওয়াটার বিষয় টা আবার অঞল ভিত্তিক। অর্থাৎ একই পরিমান পন্য উৎপাদন করতে বিভিন্ন দেশে এর পরিমান ভিন্ন। অন্যকোথাও যদি তুলনামূলক কম পরিমান পানিতে ধান উৎপাদন করা যায় তাহলে ওইখান থেকে ধান আমদানি করার অর্থ নিজের দেশের অনেক পানি সেইভ করা। দেশের মোট পানির পরিমান আর কতটুক পানি আমদানি করা হল মানে পন্য আমদানি আরকি তার যোগফল থেকে কতটুক পানি অর্থাৎ পণ্য রপ্তানি হল তা বাদ দিলে ওটাই ঐ দেশের ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট। যাই হোক এই বিষয় নিয়ে অন্যকোনদিন লিখার চেষ্টা করব।

তাহলে এখন আমরা কি করতে পারি? একটাই কাজ তা হল পণ্যের ভার্চুয়াল ওয়াটার কত তা জানা এবং চেষ্টা করা বেশি পানি খরচ হওয়া পন্য যথাসম্ভব ইগনোর করা। তাহলে আমরা ভার্চুয়ালি হলেও কিছু পানি রক্ষা করতে পারি।

আসুন ভাল রাখি পানিকে। নয়ত প্রেমিকাকে কয়দিন পর একটা গোলাপও না দিতে না পেরে কাঁটার আঘাত সহ্য করতে হবে যেটা আদতে পানিরই ভার্চুয়াল আঘাত!!

Advertisements

2 thoughts on “কাঁটার আঘাত না পানির??

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s